Monday, July 20, 2026

তারকেশ্বর ভোলানাথের কৃপা

 

তারকেশ্বর ভোলানাথের কৃপা

হুগলি জেলার পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত বাবা তারকেশ্বর ভোলানাথের মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। কারও প্রার্থনা সন্তানের জন্য, কারও সুস্বাস্থ্যের জন্য, আবার কেউ আসেন শুধু মহাদেবের দর্শন লাভের আশায়। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে ডাকলে বাবা তারকেশ্বর কখনও তাঁর ভক্তকে নিরাশ করেন না।



এক বর্ষার সকালে অরিন্দম নামে এক যুবক তার অসুস্থ মাকে নিয়ে তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দিল। দীর্ঘদিন ধরে নানা চিকিৎসা চললেও মায়ের শরীর ভালো হচ্ছিল না। গ্রামের এক বৃদ্ধ বলেছিলেন, "মন থেকে বাবা ভোলানাথকে ডাকো। তিনি পথ দেখাবেন।"

ভোরের ট্রেনে যাত্রা করে তারা মন্দিরে পৌঁছাল। চারদিকে "হর হর মহাদেব" ধ্বনি, ঘণ্টার শব্দ, ধূপের সুগন্ধ আর ভক্তদের প্রার্থনায় এক অপার্থিব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অরিন্দম মায়ের হাত ধরে ধীরে ধীরে গর্ভগৃহের দিকে এগিয়ে গেল।

শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল ও বেলপাতা অর্পণ করে সে চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করল, "বাবা, আমি ধন-সম্পদ চাই না। শুধু আমার মায়ের কষ্টটা একটু লাঘব করে দাও। আমাকে এমন শক্তি দাও, যাতে আমি তাঁর সেবা করতে পারি।"

প্রার্থনার শেষে মন্দিরের এক প্রবীণ পুরোহিত তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, "মনে সাহস রাখো। ভোলানাথের আশীর্বাদ মানে শুধু অলৌকিক ঘটনা নয়, সঠিক পথ দেখানোর শক্তিও।"

ফিরে আসার পর অরিন্দম নতুন উদ্যমে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে লাগল। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ, সঠিক খাবার এবং যত্নে ধীরে ধীরে তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করল। অরিন্দম বুঝতে পারল, বিশ্বাস মানুষকে আশা দেয়, আর আশা মানুষকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।

কয়েক মাস পরে সুস্থ হয়ে তাঁর মা আবার তারকেশ্বর মন্দিরে এলেন। এবার তাঁদের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু। তারা শিবলিঙ্গের সামনে মাথা নত করে বললেন, "হে ভোলানাথ, তুমি আমাদের ধৈর্য, সাহস এবং বিশ্বাসের শক্তি দিয়েছ।"

সেদিন সন্ধ্যায় মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, শঙ্খের শব্দ আর আরতির আলোয় চারদিক যেন আলোকিত হয়ে উঠেছিল। অরিন্দম অনুভব করল, সত্যিকারের আশীর্বাদ শুধু কোনো ইচ্ছা পূরণে নয়; বরং মানুষের অন্তরে সাহস, করুণা, ধৈর্য ও সৎপথে চলার প্রেরণা জাগিয়ে তোলাতেই।

তারপর থেকে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে অরিন্দম ও তাঁর মা বাবা তারকেশ্বর ভোলানাথের দর্শনে আসেন। তাঁরা শুধু নিজের জন্য নয়, সকল মানুষের মঙ্গল, শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করেন।

নীতিশিক্ষা: অটল বিশ্বাস, আন্তরিক প্রার্থনা এবং সৎ প্রচেষ্টা একসঙ্গে মানুষের জীবনে আশা ও শক্তির আলো এনে দেয়। বাবা তারকেশ্বর ভোলানাথের প্রতি ভক্তি আমাদের ধৈর্য, মানবতা এবং সৎকর্মের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।

তারকেশ্বর ভোলানাথের কৃপা

  তারকেশ্বর ভোলানাথের কৃপা হুগলি জেলার পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত বাবা তারকেশ্বর ভোলানাথের মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসে...